ঝিকরগাছার সেই অদম্য তামান্না নূরা এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে

28

ঝিকরগাছা অফিস : যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া জে. কে. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অদম্য তামান্না নূরা ২০১৯ সালের এসএসসি পরীায় অংশগ্রহণ করেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্য শিার্থীদের মত হেঁটে চলে বেড়াতে পারে না, কারণ জন্ম থেকে স্রষ্টা তার দু’টি হাত ও একটি পা নেই। তার চলাচলের প্রধান হাতিয়ার হুইল চেয়ার। এছাড়াও পিতা-মাতা অথবা কোনো সহপাঠীর দিকে। দু’টি হাত ও একটি পা না থাকলেও থেমে থাকেনি তামান্না নূরা এবারের এসএসসি পরীীয় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী তামান্না নূরা এবারের এসএসসি পরীায় অংশগ্রহণ করে তার এই অর্জন। শুধুমাত্র বাংলা বাদে সবকটি বিষয়ে তামান্না জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হতে চায়।
অদম্য তামান্না নূরার পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহন করে তামান্না নূরা। হাসপাতালে মা জ্ঞান ফিরেই দেখেন তার প্রথম কন্যা শিশুটির দু’টি হাত ও একটি পা নেই। দারিদ্রতার সংসার, বেকার স্বামী। বাসায় ফিরে সামাজিকভাবে অনেক প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করতে হয়েছে। বেড়ে উঠা শিশুটির চাহনি, মেধা সেদিন মায়ের মনে সাহস যোগান দিয়েছিল। বাসা থেকে দূরবর্তী শিাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা সহজ ছিল না। মায়ের কাছে প্রথমে অর জ্ঞান নিতে থাকে। বাসা সংলগ্ন শিাপ্রতিষ্ঠান আজমাইন এডাস স্কুলে ভর্তি হয় নার্সারিতে। তখন মা কাসে তাকে বসিয়ে দিয়ে বাইরে অপো করতেন। মেয়েকে নিজের সাথে নিয়ে আবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে তার পিতা রওশন আলী জানান, মেয়ের ফলাফলে আমরা খুবই আনন্দিত। সে যে পরিমাণ কষ্ট করেছে, আল্লাহ তার সম্মান রেখেছে। আমি তামান্নার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। আমরা যেন তাকে উচ্চ শিতি করতে পারি।
মাতা খাদিজা জানান, তামান্নার শ্রবণশক্তি ও মুখস্থশক্তি এত ভালছিল যে একবার শুনলেই আয়ত্ব করতে পারতো। সে অর লেখা শুরু করে পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক ধরে। তারপর একইভাবে কলম ধরে লেখা আয়ত্ব করে। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানো, আঙুলের ফাঁকে চিরুনি, চামচ দিয়ে খাওয়া, চুল আঁচড়ানো সহজে আয়ত্ব করে তামান্না। ধীরে ধীরে নিজের ব্যবহারিত হুইলচেয়ারটি এক পা দিয়ে চালানোর দতা সকলের নজরে আসে। নিজ বিদ্যালয়ে কেজি, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ফলাফলে মেধাতালিকার পাশাপাশি এডাস বৃত্তি পরীায় প্রতিবারই সে বৃত্তি পেয়েছে। লেখাপড়ার ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে আজমাইন এডাস স্কুল থেকে পি.এস.সি ও ২০১৬ সালে বাঁকড়া জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীায় অংশগ্রহন করে কৃতিত্বের স্বার রেখে জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
বাঁকড়া জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক হেলালউদ্দীন খান জানান, তামান্না তার কষ্টের ফল পেয়েছে। সে যদি তার এমন ফলাফল ধরে রাখতে পারে তবে ভবিষ্যতে অনেক কিছু অর্জন করতে সক্ষম হবে।