অবশেষে টনক নড়লো ঝিকরগাছা পৌর কর্তৃপক্ষের : হেলেপড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সবধরনের স্থাপনা নির্মান বন্ধের নির্দেশ

0

ঝিকরগাছা অফিস ॥ অবশেষে টনক নড়লো ঝিকরগাছার সেই আলোচিত হেলেপড়া ঝুকিপূর্ণ সোনালী ব্যাংকের পুরাতন সব ধরনের স্থাপনা নির্মান বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ঝিকরগাছা পৌর কর্তৃপক্ষের। ঝিকরগাছার সেই আলোচিত হেলেপড়া ঝুকিপূর্ণ সোনালী ব্যাংকের পুরাতন সব ধরনের স্থাপনা নির্মান বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি মালিক পক্ষকে পৌছে দেয়া হয়েছে বলে পৌর মোস্তফা আনোয়ার পাশা দাবি করেন। ইতিপূর্বে গত মার্চ, এপ্রিল ও ৪ সেপ্টম্বর এই ভবন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি রিপোর্ট স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভবনের বর্তমান মালিক ঝিকরগাছার সাংবাদিকদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকিও দিয়েছিল। জানাগেছে, ঝিকরগাছা শহরস্থ’ যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ন পুরাতন সোনালী মার্কেটটি অনেক পুরাতন। জরাজীর্ণ মার্কেটটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় ইতিমধ্যে ওই ভবন থেকে সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখা, বেশ কয়েকটি বিমা অফিস ও মার্কেটের বেশ কয়েকটি ভাড়াটিয়া দোকান মালিক অন্য বিল্ডিংয়ে চলে গেছে। এছাড়া মার্কেটটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়েছে। ভবনটির প্রথম মালিক পানিসারা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আব্দুস সাত্তার। ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর পূর্বে ঝিকরগাছা বাজারস্থ আব্দুল আলীম সাহেবের জামাতার নিকট (তিনতলা ভবন)সহ ৯.৬ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু বিশেষ কারনে তিনি পূর্ণরায় উক্ত পুরাতন ভবনসহ সমুদয় জমি উপজেলার রঘুনাথনগর গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ করিম নামের এক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করেন। মাসুদ করিম ক্রয়ের পর জরাজীর্ণ ভবন ভেঙ্গে উক্ত স্থানে সম্পূর্ণ নতুন ৫তলা ভবন নির্মান করনের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নকশা অনুমোদন করেন। এছাড়া পুরাতন ভবন ভাঙ্গা, ওই ভবন থেকে সোনালী ব্যাংক অন্য স্থানে স্থানান্তর করানো এবং দোকানপাট অন্যাত্র সরানোর জন্য মাসুদ করিমের পক্ষে (দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক) ঝিকরগাছা উপজেলা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক তৈয়ব আলী ঝিকরগাছা থানা ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছিলেন। তাছাড়া ঝুকিপূর্ণ ভবন হওয়ায় কয়েকমাস পূর্বে সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখা ওই ভবন থেকে অন্য ভবনে চলে গেছে। পরবর্তীতে জমি মালিক মাসুদ করিম নতুন ভবন নির্মান না করে ঝিকরগাছা বাজারের বিশিষ্ট জুয়েলার্স ব্যাবসায়ী মৃত্যূঞ্জয় ও বিশিষ্ট মুদি ব্যাবসায়ী সন্তোষ ঘোষের নিকট বিক্রি করে। ভবন ও জমির বর্তমান মালিকদ্বয় ভবনটি অপসারন না করে সম্প্রতি সংস্কারের নামে কিছু কিছু স্থানে নকশা পরিবর্তনের কাজ করছে। এছাড়া সিড়ি ঘর করার নামে চতুর্থ তলার স্থপনার কাজ রয়েছে। পূর্বে ভবনটিতে যশোর-বেনাপোল হাইওয়ে অভিমূখে দুটি রাস্তা ও সিনেমা হল রোড অভিমূখে ১টি রাস্তা ছিল। বর্তমানে সিনেমা হলরোড অভিমূখে দুটি রাস্তা করা হয়েছে। এছাড়া পাশের বিল্ডিংয়ে হেলেপড়া স্থানটি ভেঙ্গে প্লাস্টার করা হয়েছে। ফলে ভবনটি বর্তমানে পূর্বের চেয়ে অধীক ঝুকিপূর্ণ হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন। পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ভবনটির নকশা পরিবর্তনসহ সংস্কার কাজ দেখে ঝিকরগাছাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শহর জুড়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল কিছুই জানেন না বলে জানান। এসময় পৌর প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, এই ভবনের সংস্কারসহ চতুর্থ তলার স্থাপনা নির্মান কাজের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কোন আবেদন ও অনুমতি নেয়া হয়নি। সর্বশেষ রোববার ওই ভবনের সব ধরনের নির্মান কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। পত্র প্রাপ্তির সাথে সাথে সব ধরনের কাজ বন্ধসহ মালিকদ্বয়ের বিরুদ্ধে কেন ইমারত নির্মান বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয় আগামী ৭ কার্য-দিবসের মধ্যে সন্তোকজনক জবাব দেয়া কথা বলা হয়েছে। এদিকে ওই ভবনে পৌর কর্তৃপক্ষের আনআপত্তি সনদ ছাড়াই ২টি ব্যাংক ভাড়া হিসেবে উঠেছে। এছাড়া নিচতলায় বেশ কয়েকটি ভাড়াটিয়া দোকান চালু হয়েছে। এদের কাউকে পৌরসভা থেকে ট্রেডলাইসেন্স দেয়া হবে না বলে পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল জানিয়েছেন।