নড়াইলের ভাষা আন্দোলনে রিজিয়া খাতুনের ভূমিকা অনেক : রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে চায় !

10
রিজিয়া খাতুন

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : ‘নড়াইলের ভাষা আন্দোলনে রিজিয়া খাতুনের ভূমিকা অনেক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে চান! স্থানীয় ভাবে স্বীকৃতি পেলেও রাষ্ট্রীয় ভাবে দেয়া হয়নি কোন স্বীকৃতি স্বীকৃতি চান ভাষাসৈনিক রিজিয়া সবার সঙ্গে যোগ দেন আন্দোলনে, গড়ে তোলেন শহীদ মিনার। তার এই অবদান স্থানীয় ভাবে স্বীকৃতি পেলেও রাষ্ট্রীয় ভাবে দেয়া হয়নি কোন স্বীকৃতি।

মাতৃভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন ঢাকায় শুরু হলেও এর ঢেউ লাগে জেলা শহরগুলোতে। এই ঢেউ ছুঁয়ে যায় নড়াইলও। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই স্লোগানে মুখরিত করে তোলে সেদিনের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে শিার্থীরাও। তাদেরই একজন রিজিয়া মাতৃভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন করেন ছাত্র-জনতা।

বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ১৯৫২ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন সালাম, বরকত রফিক, শফিক জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে। ঢাকার আন্দোলনের সঙ্গে নড়াইলেও শুরু হয় ভাষার জন্য আন্দোলন। ভাষার জন্য আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য ছাত্ররা যখন সডকে নামার জন্য ছাত্রীদের আহবান করে তখন সবাই বিভিন্ন অজুহাতে পালিয়ে গেলেও তিনজন ছাত্রী যোগ দেন মিছিলে।

সুফিয়া খাতুন, রিজিয়া খাতুন ও রুবি। তাদের একজন রিজিয়া খাতুন বর্তমানে বসবাস করছেন শহরের আলাদাতপুর এলাকায়। নড়াইলের মহিষখোলা এলাকার আফসার উদ্দিন মোক্তারের বাড়িতে বৈঠক হত। এ সময় আফসার উদ্দিনের মেয়ে সুফিয়া খাতুন, রিজিয়াসহ অন্যরা গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করত। ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করার জন্য কাজ করতেন।

ভাষার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে মিছিল-মিটিং এ ছিলেন সক্রিয়। তিনিসহ ১০-১৫ জন শহরের তৎকালীন কালিদাস ট্যাংক (বর্তমান টাউন কাব) এর পাশে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নড়াইলে বিভিন্ন মিছিল মিটিংসহ শহীদ মিনার নির্মাণের কথা জানালেন রিজিয়া খাতুন। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের কথা বলতে বলতে নিজের অজান্তেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না, ভাষা আন্দোলন নিয়ে বললেন অনেক কথা। নড়াইলের রিজিয়া খাতুন বলেন, ৫২ সালে নড়াইলের আন্দোলন সংগ্রাম যা হয়েছে সেখানে মাতৃভাষার জন্যই অংশগ্রহণ করেছি। মাতৃভাষা রার আন্দোলনে শরীক হয়েছি। আমাদের সেই আন্দোলন বৃথা যায়নি। আমরা মায়ের ভাষাকে রা করতে পেরেছি।

এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছুই হয় না। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সম্পর্কে বলেন, ৫২ সালের আন্দোলনের স্বপে কোন কাগজপত্র দেখানো সম্ভব নয়। তখন নড়াইলের মত একটি মহাকুমায় ক্যামেরা চোখে পড়েনি। তাই কোন ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সরকারের প থেকে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করলে শেষ বয়সে হয়তো একটু শান্তনা নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে পারতাম।’ নড়াইলের অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিা অফিসার দিলারা বেগম বলেন, ‘নড়াইলের ভাষা আন্দোলনে রিজিয়া খাতুনের ভূমিকা অনেক। তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি করেন’।

রিজিয়া খাতুনের ছেলে কামাল উদ্দিন রাসেল বলেন, ‘মা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে সময়ে রাজপথে মিছিল-মিটিং করেছেন। অথচ আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সাইফ হাফিজুর রহমান খোকন বলেন, ‘যে নারীরা সেই সময়ে সাহসের সঙ্গে ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলো তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার দাবি জানাই। নড়াইলে যে মিছিল হয়েছিলো সেখানে রিজিয়া খাতুন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিকট রিজিয়া খাতুনকে ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানাই’।

নড়াইলের ডিসি আনজুমান আরা বলেন, রিজিয়া খাতুনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যাপারে নিয়ম নীতি অনুসরণ করে সুযোগ থাকলে অবশ্যই তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন। কেননা ৫২ সালে যারা ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা ভাষাকে রা করা সম্ভব হয়েছে।