একাদশ সংসদে আসছেন বিনিয়োগকারীদের অনেক পরিচিত মুখ

17

সোনালী দিন ডেক্স : দেশের জনপ্রতিনিধি হিসেবে যারা আগামী পাঁচ বছর জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নে ভূমিকা পালন করবেন, তাদের ৬১ শতাংশই ব্যবসায়ী। আর কেবল রাজনীতিই পেশা যাদের, এমন সদস্য থাকছেন ৭ শতাংশ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, প্রতিনিধিত্বের বিচারে ব্যবসায়ীদের এবারের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে আগের সব সংসদকে। এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন মাছের খামারী ও মুরগীর খামারী থেকে শুরু করে বড় শিল্পোদ্যোক্তা পর্যন্ত।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষিত হয়। আরেকটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগ হওয়ায় ফলাফল স্থগিত রয়েছে। বাকি যে ২৯৮ আসনে নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টিসহ শরিকদলগুলোর সঙ্গে মহাজোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে পেয়েছে মাত্র সাতটি আসন, এরমধ্যে বিএনপি জিতেছে মাত্র পাঁচটি আসনে।

যে ২৯৮ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের ১৪৭ জনই (৪৯ শতাংশ) নিজেদের সরাসরি ব্যবসায়ী হিসেবে হলফনামায় পরিচয় দিয়েছিলেন। পেশা হিসেবে কৃষি ও ব্যবসা দেখিয়েছিলেন আরও ৩৬ জন (১২ শতাংশ)। সবমিলিয়ে ১৮৩ জন সদস্যই কম বেশি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সে হিসাবে এবারের এমপিদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪০ শতাংশই ব্যবসায়ী।

নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনজীবীরা, আর চিকিৎসক-শিক্ষকসহ অন্যান্য পেশাজীবীরা রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, এমপিদের মধ্যে আইনজীবী ১৩ শতাংশ এবং চিকিৎসক, শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবী ৮ শতাংশ, কৃষিতে জড়িত ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য পেশায় জড়িত ৭ শতাংশ। রাজনীতিই যারা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন হলফনামায়, এমন নির্বাচিত সদস্য এই সংসদে আছেন ৭ শতাংশ।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি)। যাদের একজন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ার‌ম্যান সালমান এফ রহমান। তিনি ঢাকা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন।

জানতে চাইলে সালমান এফ রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার ব্যবসার মাধ্যমে দেশের জন্য যেসব কাজ করার আছে সেগুলো আরও জোরালোভাবে করার চেষ্টা করবো। অর্থনীতিতে আমার যে অবদান আছে, সেটা চলতেই থাকবে। তার সঙ্গে যেহেতু নতুন একটি যাত্রা শুরু করেছি আমার এলাকায়। সবার আগে আমি এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবো।’

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সালমান এফ রহমানের মত উদ্যোক্তা আছেন আরও অনেকেই। কেউ বস্ত্রখাতের ব্যবসায়ী, কেউ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান-পরিচালক, আছেন আমদানি-রপ্তানিকারকও।

এমনই একজন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। জানতে চাইলে খুলনা-৪ আসনের এ নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন অনেক বেকার তরুণ-তরুণী আছেন। তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই হবে আমার প্রধান কাজ। আমার নির্বাচনী এলাকাকে বানাতে চাই একটি আদর্শ শহর।’

স্বাধীনতার দুই বছর পর প্রথম নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে সংসদে ব্যবসায়ী ছিলেন ১৫ শতাংশ।  তবে ১৯৯০ সালের পর থেকেই রাজনীতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এখানে আসতে থাকেন ব্যবসায়ীরাও। ১৯৯৬ সালে ব্যবসায়ী এমপির হার হয় ৪৮ শতাংশ, ২০০১ সালের সংসদে এ হার দাঁড়ায় ৫১ শতাংশ। ২০০৮ সালে মোট এমপির ৬৩ শতাংশই ছিলেন ব্যবসায়ী। আর দশম জাতীয় সংসদে অর্থাৎ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যারা এমপি নির্বাচিত হন তাদের মধ্যে ১৭৭ জন কোনো না কোনো ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলেন, যা শতকরা হিসেবে ৫৯ শতাংশ।