কমিউনিটি পুলিশিং কি? কেন

0

তুহিন দাস গুপ্ত খোকন ॥ অমাদের সমাজের অনেকেই এখনো কমিউনিটি পুশিল কি বা কেন তা জানেন না। অনেকেই মনে করেন পুলিশ মানেই ধরে নিয়ে যাওয়া, থানা-কোট জেল ইত্যাদি। এই চিন্তাধারা থেকে সাধারণ জনগকে বেরিয়ে আনার জন্য যশোর কোতয়ালী থানার ইন্টেলিজেন্স এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং এর দায়িত্বে থাকা সুমন ভক্ত কাজ করে চলেছেন যশোর কোতায়ালী থানার অন্তর্গত প্রতিটি এলাকাতেই। তাঁর মতে কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে অপরাধ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নতুন পুলিশিং দর্শন । আমাদের দেশে পুলিশী কর্মকা-ে জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ধারণা গ্রহণ করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থায় কমিউনিটির সদস্যগণ, সমাজের বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কমিউনিটি পুলিশিং মূলত একটি প্রতিরোধমূলক পুলিশি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় অপরাধের কারণগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় জনগণকে সাথে নিয়ে। অপরাধের কারণগুলো যেহেতু সমাজে সৃষ্ট তাই পুলিশ এবং সমাজের জনগণকে সাথে নিয়ে অপরাধের মূলকে প্রতিরোধ করে। পুলিশের একার পক্ষে যা কখনোই সম্ভব নয় তাই এই কাজে অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং এর যাবতীয় কর্মকা- অপরাধ প্রতিরোধ তথা অপরাধ যাতে ঘটতে না পারে সেই লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। অপরাধীকে ধরা বা সাজা দেওয়া কমিউনিটি পুলিশের মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। মূখ্য উদ্দেশ্য হলো অপরাধকে খুজে বের করা। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ জনগণকে নিজ নিজ এলাকার অপরাধগুলো প্রতিরোধ করতে পারে তার জন্য আইনী পরামর্শ দেওয়া, অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করা, অপরাধকর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বা পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করে। তিনি আশা করেন প্রতিটি এলাকার মানুষ যদি কমিউনিটি পুলিশং এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পারেন তা হলে সমাজ থেকে অনেকাংশেই অপরাধ কমে যাবে। সাথে সাথে সাধারণ জনগণ ও পুলিশের মাঝে এক নতুন বন্ধন তৈরী হবে। যা পুলিশ ও জনগণকে আরো কাছে আনবে।