খুলনা রেঞ্জ ডি.আই.জি’র যশোরের সড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ। যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা (২২৭) এর অভিনন্দন

3

এইচ.এম আহসান বিপ্লব ॥ দেশ জুড়ে টোলের নামে চলছে চাঁদাবাজি। যশোরের বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রা পথে কমপক্ষে ৩৫-৪০টি স্পটে দিতে হয় অবৈধ চাঁদা। এক্ষেত্রে প্রতিটি ট্রিপে একজন চালককে গুনতে হয় বাড়তি ২০০০ থেকে ২৫শ’ টাকা। ২০১৫ সালে হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশনের পর মাননীয় আদালত সড়কপথে যানবহনকে দাঁড় করিয়ে এ ধরনের টোল আদায় (চাঁদাবাজি) বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরও অবাধে চলছে যশোরের বিভিন্ন সড়কে পৌরসভা ও বিভিন্ন ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে রসিদ দিয়েও অহরহ চাঁদাবাজি। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিভিন্নভাবে আদায় করা হয় সড়ক থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে। এসব চাঁদাবাজদের কাছে এক প্রকার অসহায় চালকরা ও যানবহন মালিকরা। একাধিক ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যশোরের ৯টি স্পটসহ মোট ১৬টি স্থানে পৌরসভার ইজারাদার এবং বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও নসিমন-করিমন থেকে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চাঁদা আদায় করা হয়।

পৌরসভাকে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান প্রতি ৪০ টাকা হারে এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে ৫০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। আর নসিমন ও করিমন প্রতি ১০ টাকা হারে দিতে উভয়কে। অভিযোগ রয়েছে যশোর সদরে শ্রমিকদের তিনটি সংগঠন ও যশোর পৌরসভা ৯টি স্পটে চাঁদা আদায় করে থাকে। এরমধ্যে যশোর সদরের মুড়লি, পুলেরহাট, খয়েরতলা (পেপসি মোড়), নিউমার্কেট (স্যালভেশন আর্মি মোড়) ও ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর পৌরসভা কর্তৃক অবৈধ ইজারাদার নিয়োগের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া রাজারহাট, চাঁচড়া চেকপোস্ট, ধলগা রাস্তার মোড়, নিউমার্কেট ও চুড়ামনকাটি এলাকায় চাঁদা গ্রহণ করে ট্রাক শ্রমিকের নামধারী আর একটি ইউনিয়ন। এছাড়া যশোরের বেনাপোল সড়কের আমড়াখালিতে শার্শার বাড়আঁচড়া ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও অভয়নগরের আরেকটি শ্রমিক ইউনিয়ন চাঁদা আদায় করে থাকে। এই চাঁদাবাজির চিত্র শুধুমাত্র যশোর শহরের নয়। টোলের নামে চাঁদাবাজি অন্যান্য উপজেলা শহরেও পৌর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো একই কায়দায় নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকে। বিভিন্ন স্পটে দুই শিফটে ২০ জন চাঁদা আদায়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানাগেছে। প্রতিদিন এক একটি রুট থেকে আটশ’ থেকে এক হাজার পর্যন্ত যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় হয়। এখান থেকে প্রতিদিন আয় হয় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। এভাবে যশোরের বিভিন্ন স্পট থেকে দুই লাখ টাকার বেশি চাঁদার টাকা আদায় করা হয় প্রতিদিন। টোলের নামে চাঁদা আদায় সংক্রান্ত একাধিক নিউজ ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়াতে আসলেও কেও তাতে কর্ণপাত করছে না।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাযায়, খুলনা রেঞ্জ ডি.আই.জি’র এক নির্দেশে যশোরের সকল সড়ক ও মহাসড়কে সকল প্রকার টোল নামক চাঁদাবাজি বন্ধের আদেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ০৩/১২/২০১৫ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.৩১.০০২৩১৩-২২৫৪ স্বারকে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা কর্তৃক মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন হতে টোল আদায় বন্ধকরণ প্রসঙ্গে এর বিজ্ঞপ্তী প্রকাশ করা হয়। এর পরও যারা সড়কে টোলের নামে অর্থ সংগ্রহ করছে তারা আইনের দৃষ্টিতে শুধুমাত্র চাঁদাবাজ। এখন থেকে যশোরের সকল সড়ক ও মহাসড়ক থাকবে টোল মুক্ত। কেউ বা কোন সংগঠন যদি এই আদেশ অমান্য করে সড়কে চাঁদাবাজি করে তার তথ্য প্রশাসনকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। সাথে সাথে তিনি প্রশাসনকে এই বিষয়টির দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। সড়ককে চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্ত করার এই নির্দেশকে অভিনন্দ জানিয়ে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা (২২৭) এর সভাপতি মামুনূর রশিদ (বাচ্চু), সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোর্ত্তজা হোসেন, সহ একাধিক নের্তৃবৃন্দ জানান, এই নির্দেশ যদি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হয় তাহলে প্রথমত সুবিধা পাবে সাধারণ ব্যবসায়ী ও যানবহন মালিকরা। তাঁদেরকে আর বাড়তি অর্থ গুনতে হবে না। অন্য দিক থেকে এই টোল নামক চাঁদা আদায়ের কারণে অনেক সময় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হত, তাও কমে যাবে অনেকাংশে। তাঁরা আরও বলেন পূর্বে টোল নামক চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজের এক সাক্ষাৎকারে আমাদের ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু একটি ভিত্তিহীন বক্তেব্যে বলেছে, টোলের (চাঁদাবাজির) অর্থ পরিবহন শ্রমিকদে কণ্যাণের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমরা সেই সভাপতির এই বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদও জানাচ্ছি। তাঁরা আরো বলেন, সড়কের সকল ড্রাইভার ও পরিবহন মালিকদের উদ্দেশ্যে, আপনারা এখন থেকে আর যশোর শহরের কোথায় কোন প্রকার টোল দিবেন না। কেউ বা কোন সংগঠন যদি আপাদের উপর জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করে তা হলে দ্রুত যশোর জেলা পরিবহন সংস্থার কর্তৃপক্ষকে ও প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ জানান। এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র যশোর জেলা নয় পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশর সকল সড়ক-মহাসড়ক থেকে সকল প্রকার চাঁদাবাজদের উচ্ছেদ করার আহ্বান জানান।