নড়াইলে জঙ্গি সন্ত্রাস মাদক শব্দটি বিলুপ্তির প্রায়

3

নড়াইল অফিস : নড়াইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), বলেছেন, নড়াইল জেলার আইন শৃংখলা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ, এবার নির্বাচন ছিল পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সফলতা অর্জন করেছে। নড়াইলের পুলিশ সুপার (এসপি) বলেন, আইন শৃংখলা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ। নড়াইল থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করে আমাদের নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করা হবে। এজন্য তিনি নড়াইলের পুলিশের সকল সদস্যকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। নড়াইল জেলার প্রতিটি পাড়া মহল্লাকে জঙ্গিবাদ ও মাদক মুক্ত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ সুপার, বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যেভাবে দেশে আগুন সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছিল তা পুলিশ বাহিনীর দৃঢ়তার জন্য রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ২০১৬ সালে দেশে যখন জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল সে সময়ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা রুখে দিয়েছিল। পুলিশ সুপার, তিনি আরো বলেন,এখন থেকে কেউ মিথ্যা মামলা করলে বাদীকে জেলে যেতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীকে জেলে যেতে হয়েছে। নড়াইলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনো নারী নির্যাতন, সংঘর্ষ ও অপহরণ কাহিনী সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকে। এখন থেকে নড়াইলে কোন মিথ্যা মামলা নেয়া হবে না। যদি কেউ মিথ্যা মামলা করতে আসে সেটা প্রমাণিত হলে বাদীকে গ্রেফতার করা হবে। আর এর সাথে কোন পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তার সহযোগিতায় থাকলে সেটা প্রমাণিত হলে সেই পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাজে কোন নিরীহ মানুষ মামলার কারণে হয়রানির শিকার হবে না। নড়াইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), নড়াইলে যোগদান করার পর থেকেই নড়াইলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে গেছে। সেই সাথে তাঁর নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে নড়াইল এখন প্রায় মাদকশূন্য। এছাড়া জঙ্গি ও সন্ত্রাস শব্দটি নড়াইলে বিলুপ্তপ্রায়। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), নড়াইলের চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ, নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নড়াইল জেলা পুলিশের সকল ইউনিটের ফোর্সবৃন্দ। জঙ্গিবাদ ও মাদক মাথা চাড়া দিয়ে উঠেতে না পারে কাজ চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান। এর আগে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)’র নির্দেশে জুয়া খেলার সাড়াশী অভিযানে নেমেছেন নড়াইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি’র এস আই সৈায়দ জামারত আলী সহ ডিবি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিয়ে। নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের জামরিল ডাঙ্গা বাজার এলাকা অভিযান চালায় এ সময় জুয়া খেলা অবস্থায় জুয়াখেলা সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ ৬ জুয়ারী কে গ্রেফতার করে করেছে নড়াইল গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। গ্রেফতার করে নড়াইলের কালিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। এস আই আরো বলেন, জুয়ারীদের উপরে সাড়াশী অভিযান চালানোর ধারাবাহিকতায়,আমাদের এসপি স্যারের নির্দেশনায় নড়াইল জেলা সকল জুয়া ও ক্যাসিনো নামক স্থানে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জুয়ারীদেরকে আটক করে। নড়াইলে কোন জুয়া খেলা হতে দেয়া হবে না বলেও আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এসপি স্যার। নড়াইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)’র নির্দেশ, নড়াইল সদর থানার একাধিক মাদক মামলার পলাতক সোনাতন বিশ্বাস সোনা (৩৫) পিতা মৃত ভরত বিশ্বাস’র ছেলে নড়াইল সদর উপজেলার পুরাডাঙ্গা থেকে ১০ পুরিয়া গাজা সহ গ্রেফতার করে নড়াইল জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকশ টিম। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, নড়াইলের নলদী ইউনিয়নের মিঠাপুর এলাকা থেকে ৪ জন জুয়ারু কে-তাস, নগদ টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জামাদিসহ গ্রেপ্তার করে। ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ডিবি পুলিশের এস আই সৈায়দ জামারত আলী ও এ এস দুরানত আনিস, ডিবি পুলিশের ক; বাবু নারায়ন, ক; বাবু মোহন সহ আরো কয়জন। ডিবি পুলিশের এস আই, জানান, পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)’র গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান চালায় বিল ডুমুরতলা গ্রাম থেকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানায় মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। এছারাও পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪৮ পিস ইয়াবা ও পনের গ্রাম গাঁজাসহ মোট ৮ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার পুলিশের মুরগী পট্টি থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামের শাহিন শেখের ছেলে সাজ্জাদ শেখকে আটক করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে ঝিকড়া গ্রাম থেকে সবুর শেখের ছেলে তরিকুল শেখকে ২ পিস ইয়াবাসহ এবং তার সহযোগী সোহাগ শেখকে আটক করেন। অপরদিকে নড়াইলের দিঘলিয়া বাজারে অবস্থিত সরদার ফার্মেসীতে অভিযান চালিয়ে গ্রাম্য চিকিৎসক মজনু সরদারকে ৪১ পিস ও জুবায়ের খানকে ২৫পিস ইয়াবাসহ আটক করে। অপর অভিযানে ১৫ গ্রাম গাঁজাসহ পৌর এলাকার আসলাম জমাদ্দারকে আটক মদিনাপাড়া থেকে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। নড়াইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), জানান এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। এছাড়াও থানা পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম, ছয় জুয়াড়ি ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। ওই ঘটনায় জুয়া ও মাদক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দিবাগত রাত ১১টার দিকে নড়াইলের কালিয়া থানার একদল পুলিশ জেলার বেন্দা গ্রামের আকবর মোল্যার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭হাজার ৮৯৫টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের উকিল মোল্যার ছেলে রফিকুল মোল্যা (৪৫),একই গ্রামের সুনিল রায়ের ছেলে উদয়শংকর রায় (৩০),ও মৃত শরীয়াতুল্লার ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান (৫০), বড়নাল গ্রামের মৃত রাজ্জাক মল্লিকের ছেলে রবি মল্লিক(৪৫), রামনগর গ্রামের মৃত রবীন্দ্র নাথ বিশ্বাসের ছেলে নির্মল বিশ্বাস (৪০) ও রুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ফুকরা মেছধামা গ্রামের মৃত আলী মিয়া সরদারের ছেলে গফ্ফার সরদারকে (৫০) আটক করেছে। অপরদিকে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে একই থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে বড় নড়াইলের কালিয়া খেয়াঘাট থেকে ১০পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাহিরডাঙ্গা গ্রামের মৃত ইন্তাজ মোল্যার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী নান্নু মোল্যাকে (৩৮) আটক করেছে। পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), আরো জানান নড়াইলের সকলকে, ইয়বা, জঙ্গি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। সকল প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সকলকে কঠোর নজরদারি রাখার জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ক্ষমতার বলে কাউকে কোনো প্রকার হয়রানি না করে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে বলেও হুশিয়ারি প্রদান করেন।