রোনালদোর বিস্ময়কর গোলে ঘোর কাটছে না ফুটবল বিশ্বের

12

এখনও যেন ঘোর লেগে আছে আপামর ফুটবলপ্রেমীদের চোখে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। একটা বাই সাইকেল কিক। স্কোর বোর্ডে একটা সংখ্যার আগমন।  তিনি রোনালদো বলেই এই ঘটনাকে কেবলমাত্র সেটুকুই হয়ে থাকতে দিলেন না। দিয়ে দিলেন রূপকথার মর্যাদা।  গোল তো গোলই, তবে যে সৌন্দর্য তাতে লেখা থাকল, তা গোলের অধিক।

জুভেন্তাসের বিরুদ্ধে এক গোলে এগিয়েই ছিল রিয়াল। ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ছিলেন মার্সেলোরা। দানি কারভাহালের চিপ ক্রস যখন রোনালদোর দিকে উড়ে আসছে, তখন তিন কাঠির নিচে জায়গা নিয়ে নিয়েছিলেন জুভেন্তাস গোলরক্ষক বুফোঁ। পোড়খাওয়া বুফো আঁচ করেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে চলেছে। আন্দাজ করেছিলেন, বল পায়ে নামিয়ে গোলের লক্ষ্যে ঝাঁপাবেন রোনালদো।

বড় খেলোয়াড় বুঝি তাঁরাই, যাঁরা ফুটবল দুনিয়ার সব ছক এলেমোলো করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রেও হল তাই। বুফোর হিসেব এলোমেলো করেই শূন্যে শরীর ছুড়ে দিলেন রোনালদো। চোখের পলকে বাইসাইকেল কিকে বল গিয়ে জড়াল জালে। নড়ার সময় পেলেন না বুফো। যখন ঘোর ভাঙল ততক্ষণে গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে। এমন গোলের সাক্ষী থাকার সৌভাগ্য তো সচরাচর হয় না।

 

ফুটবল বিশ্ব এমন গোল যে দেখেনি তা নয়। যাঁর সঙ্গে রোনালদোর তুলনায় গোটা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা দ্বিধাবিভক্ত, সেই মেসিও এরকম গোল করেছেন। কিন্তু রোনালদোর গোল মানেই সেখানে মিশে থাকে এক অনবদ্য অ্যাটিটিউড। একটা ছক ভাঙা তছনছ করা ঝড়ের আবহ তিনি তৈরি করে দেন, যা বেসামাল করে তোলে তাঁর অনুগামীদের। উদ্বেলিত হন রিয়ালের তারকারা। তবে এই গোলটি যেন তার থেকেও বেশি কিছু।

এমনকী জুভেন্তাসের ফ্যানরাও স্বীকার করছেন, ফুটবল ইতিহাসের এই ঐশ্বরিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছেন তাঁরা। মেসিভক্তরাও ইতিউতি জানাতে শুরু করেছেন, ফুটবলের ঈশ্বর একজন হলেও, অলৌকিক ঘটাতে পারেন রোনালদো। এইটাই বোধহয় এই গোলের সার্থকতা। এরপর থেকে আবার দুই দলের সমর্থনে বিভাজন চলবে। মেসি বনাম রোনালদো নিয়ে চর্চায় সরগরম হবে বিশ্ব। কিন্তু ওই যে কয়েক মুহূর্তের বিমূঢ় বিস্ময়, ওই যে কয়েক মুহূর্ত সকলে এক হয়ে থাকা, এটাই ফুটবেলর দান। ফুটবল দেবতার দূত হয়ে রোনালদোই তা ফেরি করতে পারেন।